শনি মহারাজ , হনূমান দেব

শনি মহারাজ , হনূমান দেব

Tuesday, 24 January 2017

শনি দেব




সৌর মণ্ডলে স্থিত পৃথিবী থেকে ৮৯০০০০০০ মাইল দূরে অবস্থিত এবং সূর্য থেকে এর দুরত্ব ৮৮৬০০০০০০ মাইল দূরে শনি গ্রহের স্থিতি । তুলনামূলক পৃথিবী থেকে ৯৫% গুন অধিক চৌম্বকীয় শক্তি সম্পন্ন । সূর্য পরিক্রমা করতে ২৯ বছর লাগে ।
শনির ক্রূরতা সম্পর্কে সকলেই অবহিত । এমন লোক খুব কমই আছে যে শনির নাম শুনে ভীত হয় না । সূর্য দেবের নয় পুত্র এর মধ্যে শনির নাম বিশেষ উল্ল্যেখযোগ্য । সূর্য দেবের পত্নী ছায়ার পুত্র শনি দেবের গায়ের বর্ণ কালো । শনি ছোট বেলা থেকে বদ মেজাজি । সূর্য দেব নিজের রাজ্য তার পুত্র দের মাঝে ভাগ করে দিলেন । প্রত্যেক সন্তান কে এক এক লোকের অধিপতি করে দিলেন । শনি দেব এক লোকের অধিপতি হয়ে খুশি ছিলেন না । তাই তার ভাইদের কাছ থেকে রাজ্য কেড়ে নেবার পরিকল্পনা করলেন । অধিক শক্তি লাভের জন্য তিনি বন্মভা তপস্যা বসলেন তার তপস্যা সন্তুষ্ট হয়ে দেখা দিলেন । তিনি তাকে বর চাইতে বললেন । শনি দেব তখন বললেন ঃ
হে ভগবান ,আমার শুভ দৃষ্টি পড়লে যেমন কারো ধন সম্পত্তি ঘর সন্তান ইত্যাদি সুখি ও সম্পন্ন হয় তেমনি কু দৃষ্টি পড়লে যেন যার উপর পড়বে তার যেন সব ছারখার হয়ে যায় । ব্রন্মভা তাকে বর দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন ।




শনি দেব শক্তি প্রাপ্ত হবার পর শনি দেব তাঁর ভাইদের রাজ্য ছিনয়ে নেওয়ার জন্য তৎপর হলেন । তখন অন্যান্য ভাইরা সবাই পিতা সূর্য দেবের স্মরণাপন্ন হলেন হলেন । সূর্য দেব তখন ভগবান শিবের স্মরণাপন্ন হলেন এবং প্রার্থনা করলেন । সূর্য দেবের প্রার্থনা শুনে শনি দেব কে মারার জন্য নন্দী ও বীরভদ্র কে পাঠালেন । এরা সবাই শনি দেবের কাছে পরাজিত হয়ে ফিরে এলেন । তখন শিব ক্রুদ্ধ হয়ে নিজেই শনির সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য তৃতীয় নয়ন খুললেন । শনি তার মারক দৃষ্টি দিয়ে শিব কে দেখলেন । উভয়ের দিব্য দৃষ্ট জ্যোতিঃ সারা মহাকাশ আচ্ছাদিত হল । এবার শিব তাঁর ত্রিশূলের প্রহারে শনি অবচেতন করলেন । নিজ পুত্র কে মৃত ভেবে শোক গ্রস্ত হলেন এবং শনির জীবন দানের জন্য প্রার্থনা অনুনয় বিনিময় করতে লাগলেন । সূর্যের প্রার্থনা শুনে শিব শনির মুরচ্ছা ভঙ্গ করলেন ।  শনিদেবে অভিমান ভঙ্গ হল এবং ভগবানের পাদপদ্মে নিজেকে সমরপন করে ক্ষমা চাইলেন ।
শিব তখন প্রসন্ন হয়ে শনি দেব কে নিজের সেবক করে নিলেন এবং তাকে দণ্ডাধিকারি পদ দিলেন ।
শনি দেব ক্রূর হবার ওপর একটি কাহিনী আছে । একবার শনিদেবের পত্নী ঋতুমতী হলেন । ঋতু স্নানের পর তিনি পুত্র কামনায় নিজ পতি দেবের কাছে উপস্থিত হলেন । কৃষ্ণ ভক্ত শনিদেব ঐ সময় কৃষ্ণের ধ্যানে মগ্ন ছিলেন । তার পত্নীর ঋতু ব্যর্থ হয়ে গেল । তিনি রেগে গিয়ে শনিদেব কে অভিশাপ দিলেন যে তোমার দৃষ্টি যার উপর পড়বে তার সর্বনাশ হবে ।
শনির কু দৃষ্টি র কারনে মহাপ্রতাপি বেদজ্ঞ ও মহাপণ্ডিত রাবনের সর্বনাশ হয়েছিল । যদিও  শিবের কাছে বর পেয়ে ছিলেন । সূর্য , কুবের , যম বায়ু তার অধিনে । একবার তিনি শনির সাম্রাজ্য আক্রমণ করে তাকে বন্দী করে বন্দী গৃহে তাকে উল্টো করে টাঙ্গিয়ে রাখলেন । রাবনের শক্তির কাছে শনি দেব অসহায় হয়ে পড়েন । কিছু কাল পর সীতা দেবীর খবর নেবার জন্য হনুমান জী লঙ্কায় গেলে শনিদেব তাকে বন্দী দশা থেকে মুক্ত করতে বলেন । 
হনুমান তাকে মুক্ত করলে তার দৃষ্টি তে লঙ্কা পুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায় ।


















1 comment: